বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সামনে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনরা তাদের প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। হৃদয়বিদারক এসব বক্তব্য শুনে একপর্যায়ে তারেক রহমানও মঞ্চে বসেই আবেগ ধরে রাখতে না পেরে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকেন।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল সোয়া ১১টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চীন-মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’-এর উদ্যোগে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব ঘটনা ঘটে।
সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে কিশোরী আদিবা ইসলাম হৃধি বলেন, ২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর শাহবাগ থেকে তার বাবা পারভেজ হোসেনকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন তার বয়স ছিল মাত্র আড়াই বছর। এরপর আর কোনো খোঁজ মেলেনি। গুম কমিশনের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে হৃধি বলেন,
“গুম কমিশন বলে, ধরে নিন ওরা মৃত। কেন? এটা কি হাতের অঙ্ক যে আমরা ধরে নেব আমাদের বাবারা আর নেই? একটা দল করা কি অপরাধ? এর জন্য এমন বিচার কেমন বাংলাদেশে?”
আরেক ভুক্তভোগী শাফা বলেন, তার বয়স যখন মাত্র দুই মাস, তখন তার বাবাকে গুম করা হয়। এখন তার বয়স ১৩ বছর। “আমি বাবার মুখও দেখিনি। বাবার ছবি হাতে নিয়ে অনেক জায়গায় গিয়েছি, কোথাও কোনো খোঁজ পাইনি। আমরা বাবাকে ফেরত চাই—এ কথা বহুবার বলেছি, কিন্তু আজও ফেরত পাইনি,” বলেন তিনি।
গুম হওয়া পারভেজের ছেলে রাতুল জানান, তার বাবা ও চাচাকে একসঙ্গে র্যাব তুলে নিয়ে যায়। “১২ বছর পেরিয়ে ১৩ বছরে পড়ল, আজও কোনো সন্ধান নেই। এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে খুঁজতে যাইনি। আমরা কি এমন বাংলাদেশ চেয়েছিলাম?” তিনি তারেক রহমানের কাছে অনুরোধ জানান, ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে যেন গুম-খুন বন্ধে কঠোর আইন করা হয়, যাতে আর কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর কান্নাজড়িত বক্তব্যে সভাস্থলে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। কেউ কেউ মঞ্চে উঠে তারেক রহমানের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন। এ সময় তারা গুমের শিকার স্বজনদের ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি সুষ্ঠু বিচারের জোরালো দাবি জানান।
