চট্টগ্রামের পটিয়ার সন্তান *আমির মোহাম্মদ মহিউদ্দিন*—সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত এক প্রবাসী বাংলাদেশি। বিদেশে থাকলেও এবার তিনি পড়েছেন প্রতারণা, চাঁদাবাজি এবং প্রাণনাশের হুমকির মতো ভয়াবহ পরিস্থিতিতে।
অবাক করা বিষয় হলো, এসব ঘটনার নেপথ্যে রয়েছেন তার একসময়ের প্রাণের বন্ধু *ইমরান খান*। যিনি একসময় ছিলেন আড্ডার সঙ্গী, খাওয়াদাওয়া আর ঘোরাঘুরির সহযোগী। সেই বন্ধুই আজ প্রতারণার জাল পেতে দিচ্ছেন হত্যার হুমকি।
২০২২ সালে জমি বিক্রির বায়না বাবদ আমির মোহাম্মদ মহিউদ্দিন তার বন্ধু ইমরান খানকে দুটি চেকের মাধ্যমে *৫ লাখ টাকা* দেন। কিছুদিন পর জমির কাগজপত্র নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়ে তিনি চেক ফেরত চাইলে ইমরান দাবি করেন, চেকগুলো বাসা বদলের সময় হারিয়ে গেছে।
২০২৩ সালে দেশে ফেরার পর ইমরান আবারও তার স্ত্রীর স্টুডেন্ট ভিসার জন্য মহিউদ্দিনের সাহায্য চান। মহিউদ্দিন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে প্রায় *১০ হাজার দিরহাম* খরচ করেন, যার মধ্যে ইমরান দেন মাত্র ৭,৫০০ দিরহাম। এর মাঝেই তিনি আবার ৩৫ হাজার টাকা ধার নেন।
২০২৪ সালে ইমরান হঠাৎই অবৈধভাবে অর্থ ফেরতের দাবি শুরু করেন। শুধু তাই নয়, ভয়ভীতি, অশোভন আচরণ এবং প্রাণনাশের হুমকিও দিতে থাকেন।
চলতি বছরের *৩১ জুলাই দুপুর ১টা ২৪ মিনিটে, ইমরান তার ৬–৭ জন সহযোগীকে নিয়ে চট্টগ্রামের পাচলাইশ থানার গোলপাহাড় মোড়ের ইদ্রিস টাওয়ারে অবস্থিত মহিউদ্দিনের অফিসে (নিওপলিস ইউনিভার্সিটি পাফোস) গিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ চেক দেখিয়ে **৭ লাখ টাকা দাবি করেন*।
এমন ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে আমির মোহাম্মদ মহিউদ্দিন *৭ সেপ্টেম্বর পটিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি)* করেন ইমরান খানের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি *প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়েও লিখিত অভিযোগ* দাখিল করেন।
চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে তিনি বলেন—
*“মেয়াদোত্তীর্ণ চেক দিয়ে দিনের পর দিন আমাকে ব্ল্যাকমেইল করছে ইমরান খান। আমি থানায় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দিয়েছি।”*
অন্যদিকে অভিযুক্ত ইমরান খান বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন—
*“এসব মিথ্যা অভিযোগ। আসলে আমিই তার কাছে টাকা পাই।”*
সারাদেশ
বন্ধুত্বের মুখোশে প্রতারণা: প্রবাসী বাংলাদেশির প্রাণনাশের হুমকি!
লেখকঃ নিজস্ব প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
সম্পর্কিত খবর
