সৌদি আরব সরকারের উপহার হিসেবে প্রাপ্ত কোরবানির দুম্বার মাংস বিতরণে রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও প্রেসক্লাবের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী মাংসটি এতিমখানা, মাদ্রাসা ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণের কথা থাকলেও বাস্তবে এর বড় অংশের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. জিহাদ জানান, রাঙামাটি জেলা থেকে বাঘাইছড়ির জন্য ২২ কার্টুন দুম্বার মাংস পাঠানো হয়েছিল। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদকে একটি করে কার্টুন দেয়া হয় এবং বাকি অংশ মাদ্রাসা ও এতিমখানার মধ্যে বিতরণের নির্দেশ ছিল।
তবে উপজেলা পরিষদে পৌঁছানোর আগেই একটি কার্টুন উধাও হয়ে যায় বলে জানা গেছে। এছাড়া স্থানীয় সূত্র বলছে, বাঘাইছড়ি প্রেসক্লাবেও ১ থেকে ২ কার্টুন মাংস বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রেসক্লাব সভাপতি আব্দুল মাবুদ ও কোষাধ্যক্ষ মহিউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করলেও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলার আট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা জানিয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকে একটি করে কার্টুন মাংস পেয়েছেন। অন্যদিকে এতিমখানা ও মাদ্রাসাগুলোতে মোট ৩ কার্টুনের সমপরিমাণ মাংস বিতরণ করা হয়েছে।
অর্থাৎ ২২ কার্টুনের মধ্যে হিসাব মেলেছে ১২ কার্টুনের; বাকি ১০ কার্টুন দুম্বার মাংসের কোনো তথ্য প্রশাসনের কাছে নেই।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য না করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুপ্তশ্রী সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। তবে তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছেন। একাধিক মন্তব্যে বলা হয়েছে, “যাদের জন্য এ মাংস বরাদ্দ, তারা বঞ্চিত, অথচ সুবিধা নিচ্ছেন প্রভাবশালী ও কিছু সাংবাদিক।”
স্থানীয় সাংবাদিকদের একাংশ বলেন, “প্রেসক্লাবের নামে এতিম ও গরিবদের মাংস নেয়া লজ্জাজনক ও অনৈতিক। এতে সাংবাদিক সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে।”
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, “আগের ইউএনও শিরিন আক্তার নানা অভিযোগে বদলি হয়েছেন। নতুন ইউএনও আমেনা মারজানের ওপর জনগণের বিশ্বাস ছিল। কিন্তু এ ঘটনায় প্রশাসনের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।”
তাঁরা দাবি করেছেন, পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
