কুমিল্লা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা চকবাজার পুলিশ ফাঁড়িকে ঘিরে ‘সোর্স’ পরিচয়ে এক ব্যক্তির প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ‘সাজ্জাদ’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তি এবং ফাঁড়িতে কর্মরত এক এএসআইয়ের প্রভাবের কারণে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ‘সোর্স’ পরিচয়ে সাজ্জাদ ফাঁড়িতে অবাধে যাতায়াত করেন এবং পুলিশের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় চেকপোস্ট, অভিযান কিংবা মীমাংসার নামে অর্থ আদায় করেন। কেউ প্রতিবাদ করলে হয়রানি বা মামলার ভয় দেখানো হয় বলেও দাবি স্থানীয়দের একাংশের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানি বলেন, ফাঁড়িতে গেলে মনে হয় পুলিশের চেয়ে ওই সোর্সের কথাই বেশি গুরুত্ব পায়। আরেক বাসিন্দা রহিমুল ইসলাম হিমেল অভিযোগ করেন, ন্যায়বিচারের আশায় গেলে উল্টো ভয় তৈরি হয়। পরিবেশটাই ভীতিকর।
চকবাজার-ইপিজেড এলাকায় কর্মরত কয়েকজন নারী শ্রমিকও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। ইপিজেডের শ্রমিক রাবেয়া খাতুন বলেন, “রাতে বাসায় ফেরা কঠিন হয়ে গেছে। ফাঁড়িতে গেলে সহায়তার বদলে চাপের মুখে পড়তে হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফাঁড়িতে কর্মরত এএসআই সিরাজ। তিনি বলেন, সাজ্জাদ বা অন্য কারও সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ‘সোর্স’ সাজ্জাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন, চকবাজার ফাঁড়ি অপরাধ দমনের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে, নাকি একটি বিশেষ গোষ্ঠীর প্রভাব বলয়ে পরিচালিত হচ্ছে। তারা দ্রুত স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
