ইরানের সর্বোচ্চ নেতা দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি এবং শিয়া ইসলামের ধর্মীয় নেতাও বটে। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর সংবিধানে সর্বোচ্চ নেতার পদ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথম নেতা ছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি, যিনি ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৯ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। খোমেনীর মৃত্যুর পর আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৮৯ সালে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হন এবং ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত হওয়া পর্যন্ত ৩৬ বছর ছয় মাস এই পদে ছিলেন।
নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী তিন সদস্যের অন্তর্বর্তী পরিষদ ক্ষমতা গ্রহণ করে। এই তিন সদস্য হলেন:
-
দেশের প্রেসিডেন্ট
-
বিচার বিভাগের প্রধান
-
গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন জুরিস্ট, যাদের মনোনয়ন করে এক্সপিডিয়েন্সি কাউন্সিল
তাদের ক্ষমতা সীমিত। রাষ্ট্রের সাধারণ নীতিমালা নির্ধারণ, গণভোটের ডিক্রি জারি, যুদ্ধ বা শান্তি ঘোষণা, প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন, উচ্চপদস্থ সামরিক ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কমান্ডার নিয়োগ ইত্যাদির জন্য এক্সপ্ল্যানেটরি কাউন্সিলের তিন-চতুর্থাংশ অনুমোদন প্রয়োজন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা কেবল একজন আয়াতুল্লাহ হতে পারেন। খামেনি নির্বাচিত হওয়ার সময় তিনি আয়াতুল্লাহ ছিলেন না, তাই আইন পরিবর্তনের মাধ্যমে তাকে পদে আনা হয়। নির্বাচন পরিচালনা করে সুপ্রিম লিডার্স কাউন্সিল, যা ৮৮ জন আলেমের সমন্বয়ে গঠিত। প্রতি ৮ বছর পর ইরানের নাগরিকরা এই পরিষদের সদস্যদের নির্বাচিত করেন। সর্বোচ্চ নেতার পরিষদের সদস্য হতে গার্ডিয়ান কাউন্সিলের অনুমোদন প্রয়োজন।
নির্বাচনের জন্য নতুন সর্বোচ্চ নেতার যোগ্যতা যাচাই করেন সুপ্রিম লিডার্স কাউন্সিলের একটি কমিশন। নির্বাচনে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই, তবে অতীত অভিজ্ঞতা দেখায় যে মৃত্যু বা পদত্যাগের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উত্তরসূরি নির্বাচিত হয়েছে।
সর্বোচ্চ নেতার ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে:
-
রাষ্ট্রের সাধারণ নীতিমালা নির্ধারণ
-
প্রেসিডেন্টের নিয়োগ ও অপসারণ
-
সব বাহিনীর সর্বাধিনায়কত্ব, বিশেষ করে বিপ্লবী গার্ড ও বাসিজ বাহিনী
-
যুদ্ধ ঘোষণা এবং আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
-
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থার প্রধান নিয়োগ
খামেনির মৃত্যুর পর নতুন নেতার নির্বাচনে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সম্ভাব্য উত্তরাধিকারীদের মধ্যে পূর্বে খামেনি বিশেষ গুরুত্ব দিতেন তার ছেলে মুজতবা খামেনি ও বিচার বিভাগের প্রধান ইবরাহিম রাইসিকে। তবে ইবরাহিম রাইসি ২০২৪ সালে মারা যান।
সংক্ষেপে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন জটিল এবং ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির মধ্যে সমন্বয় ও প্রভাবের ওপর নির্ভরশীল।
