যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা, উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের পাল্টা জবাব এবং আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু—এই তিনটি ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যকে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানে অনুকূল শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা বললেও বাস্তবতা হলো, ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব ও অভ্যন্তরীণ শক্তিকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।
খামেনির মৃত্যু ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জন্য বড় আঘাত হলেও শাসনব্যবস্থাটি এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে যাতে নেতৃত্ব পরিবর্তনের পরও কাঠামো অটুট থাকে। অতীতে কাসেম সোলেইমানির হত্যার পরও ইরান দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করবে, আর অন্তর্বর্তী পরিষদ রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। আইআরজিসি ও বাসিজ বাহিনীর মতো শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামো শাসনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভেতরে বড় ধরনের বিভাজন না হলে দ্রুত পতনের সম্ভাবনা কম।
অন্যদিকে, ইরান পারস্য উপসাগরজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধের উদ্যোগ বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা দিতে পারে, কারণ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল ও গ্যাস এই পথেই পরিবাহিত হয়। ফলে সংঘাতের প্রভাব শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং চীন-রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করলেও উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা ক্ষীণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শাসন পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে এগোলে এবং ইরান যেকোনো মূল্যে টিকে থাকার চেষ্টা করলে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ঝুঁকি প্রবল। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হতে পারে সাধারণ জনগণকে।
