ইরানের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ, সহিংসতা ও প্রাণহানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রধান দায়ী হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক দাঙ্গা, হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞের পেছনে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও তার প্রশাসনের ভূমিকা রয়েছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ঈদে মাবআস উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে সমাজের বিভিন্ন স্তরের হাজারো মানুষের উদ্দেশে এসব কথা বলেন আয়াতুল্লাহ খামেনি।
ভাষণে তিনি বলেন, ‘ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে যে প্রাণহানি, ক্ষয়ক্ষতি ও মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে, তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট দায়ী। এ ক্ষেত্রে তিনি একজন অপরাধী।’
সর্বোচ্চ নেতা জানান, গত মাসের শেষ দিকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ প্রথমে শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। দাঙ্গাকারীরা বিভিন্ন শহরে তাণ্ডব চালায়, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ নাগরিকদের হত্যা করে এবং সরকারি ও জনসাধারণের অবকাঠামোতে হামলা চালায়।
তিনি দাবি করেন, এসব সহিংস কর্মকাণ্ডের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংশ্লিষ্টতা স্পষ্ট। এ প্রসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্ট এবং মোসাদের ফার্সি ভাষায় দেওয়া আহ্বানের কথা উল্লেখ করেন।
আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, অতীতে এ ধরনের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম বা ইউরোপ-আমেরিকার দ্বিতীয় সারির রাজনীতিকরা হস্তক্ষেপ করলেও এবার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টই দাঙ্গাকারীদের উৎসাহ দিয়েছেন এবং সামরিক সহায়তার কথাও বলেছেন। তার মতে, এতে প্রমাণ হয়—এই অস্থিরতা যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।
তিনি আরও বলেন, ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের সক্ষমতা, ভৌগোলিক অবস্থান এবং বৈজ্ঞানিক-প্রযুক্তিগত অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্র সহ্য করতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাম্প্রতিক সহিংসতায় জড়িতদের ‘ইরানের জনগণ’ হিসেবে তুলে ধরাকে ইরানি জাতির বিরুদ্ধে গুরুতর অপবাদ আখ্যা দিয়ে খামেনি বলেন, এ ধরনের প্রচার সরাসরি অপরাধের শামিল। তার দাবি, এসব ব্যক্তিকে মার্কিন ও ইসরায়েলি সংস্থাগুলো শনাক্ত, প্রশিক্ষণ ও অর্থায়ন করেছে।
ভাষণের শেষাংশে আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, ‘আমরা দেশকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবো না। তবে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক অপরাধীদের কোনোভাবেই শাস্তি ছাড়া ছেড়ে দেওয়া হবে না।’
আজকের খবর / এম.এস.এইচ.
