কুমিল্লা দোকান মালিক সমিতি-র কমিটি গঠন নিয়ে এবার আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীদের একটি অংশ দাবি করেছেন, বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পদ বণ্টন করা হয়েছে।
কুমিল্লা দোকান মালিক সমিতি-এর কমিটি গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে, এনিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন। ব্যবসায়ীদের একাংশ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—কোনো মার্কেট মালিক কীভাবে দোকান মালিক সমিতির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক হতে পারেন? তাদের মতে, এটি স্বার্থের সুস্পষ্ট দ্বন্দ্ব তৈরি করে।
অভিযোগ উঠেছে, যিনি নিজেই একটি মার্কেটের মালিক, তিনি যদি সমিতির সভাপতি বা সেক্রেটারি হন, তাহলে সাধারণ দোকান মালিকদের ন্যায্য দাবি কতটা নিরপেক্ষভাবে উপস্থাপিত হবে—তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। ভাড়া নির্ধারণ, সার্ভিস চার্জ, দোকান উচ্ছেদ, নবায়ন ফি—এসব ইস্যুতে মার্কেট মালিক ও ভাড়াটিয়া দোকানদারের স্বার্থ এক নয়। ফলে একই ব্যক্তি দুই পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।
এছাড়াও ব্যবসায়িরা বলেন, বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে কমিটি নেওয়ার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করেছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অর্থ ও প্রভাবের জোরে পদ বণ্টন হওয়ায় সংগঠনটি এখন আর সাধারণ দোকান মালিকদের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে না; বরং একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ি বলছেন, এটি শুধু নৈতিক প্রশ্ন নয়—সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক চর্চারও পরিপন্থী। যদি সত্যিই মার্কেট মালিকরা সভাপতি-সেক্রেটারি পদে থাকেন, তবে তা অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করা উচিত এবং স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় নতুন কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না এলে বিতর্ক আরও বাড়বে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী মহল।
