হজের সময় নারীদের পর্দা করতে হয় না—এমন একটি ভুল ধারণা সমাজে প্রচলিত রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, ইহরামের অবস্থায় পর্দার বিধান শিথিল হয়ে যায়। তবে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে এই ধারণা সঠিক নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইহরাম অবস্থাতেও গায়রে মাহরাম পুরুষদের সামনে নারীদের পর্দা করা অপরিহার্য। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ইহরামের সময় নারীরা সরাসরি মুখে কাপড় লাগিয়ে (নিকাব বা বোরকার মতো) ঢাকতে পারবেন না। এটি নিষিদ্ধ। কিন্তু তাই বলে ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ খোলা রাখাও বৈধ নয়।
হাদিসে এ বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, ইহরাম অবস্থায় তারা যখন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে ছিলেন, তখন পথচারীরা কাছে এলে তারা নিজেদের চাদর মাথা থেকে সামনে ঝুলিয়ে মুখ ঢেকে নিতেন। আবার তারা চলে গেলে মুখ খুলে দিতেন।
আলেমরা বলেন, এই বিধানটি সাময়িক এবং শুধুমাত্র ইহরামের সময়ের জন্য প্রযোজ্য। সাধারণত ওমরার ক্ষেত্রে ১–২ দিন এবং হজের ক্ষেত্রে কয়েকদিন এই বিধান কার্যকর থাকে। তবে ইহরাম শেষ হওয়ার পর নারীদের জন্য পর্দার বিধান পুরোপুরি বহাল থাকে।
অন্যদিকে, মদিনা সফরের সময় ইহরামের কোনো সম্পর্ক নেই। তাই সেখানে বেপর্দা চলাফেরা করার কোনো সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে যথাযথ পর্দা ও শালীনতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, হজ কোনো বিধান শিথিল করার সুযোগ নয়; বরং এটি আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রদর্শনের সময়। তাই নারীদের উচিত শরিয়তের নির্দেশনা মেনে শালীনতা ও পর্দা বজায় রেখে এই ইবাদত পালন করা।
