কুমিল্লা নগরীর মুরাদপুর মৌলভী বাড়ি এলাকায় অবস্থিত আশরাফিয়া জামে মসজিদে পবিত্র রমজানের শেষ দশকে প্রায় ২৫জন মুসল্লি এতেকাফে বসেছেন। এতে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে অনন্য ধর্মীয় পরিবেশ ও আধ্যাত্মিক আবহ।
স্থানীয় সূত্র ও মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতি বছরের মতো এবারও রমজানের শেষ দশকে বহু ধর্মপ্রাণ মুসল্লি এতেকাফ পালনের জন্য এই মসজিদে সমবেত হয়েছেন। তরুণ, মধ্যবয়সী ও প্রবীণ—সব বয়সের মুসল্লির উপস্থিতিতে মসজিদ প্রাঙ্গণ যেন এক ইবাদতের ময়দানে পরিণত হয়েছে।
এতেকাফে অংশগ্রহণকারী মুসল্লিরা দিন-রাত কোরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ, জিকির-আজকার, দোয়া ও তওবায় সময় অতিবাহিত করছেন। আল্লাহর নৈকট্য লাভ, গুনাহ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা এবং জীবনের সঠিক পথে চলার প্রত্যয়ে তারা ইবাদতে নিমগ্ন রয়েছেন।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এতেকাফ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল। মুহাম্মদ (সা.) প্রতি বছর রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ পালন করতেন। মুসলমানরা সেই সুন্নতের অনুসরণে মসজিদে অবস্থান করে ইবাদতে সময় ব্যয় করেন এবং বিশেষভাবে লাইলাতুল কদর লাভের প্রত্যাশা করেন।
স্থানীয় আলেমরা বলেন, এতেকাফ মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে তোলে। ব্যস্ত জীবনের মাঝেও এই সময়টুকু মানুষকে গুনাহ থেকে দূরে রেখে ইবাদতে মনোযোগী হতে সহায়তা করে।
এলাকাবাসীর মতে, এই আশরাফিয়া জামে মসজিদে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বিপুল সংখ্যক মুসল্লির এতেকাফে অংশগ্রহণ এ অঞ্চলের মানুষের ধর্মীয় অনুরাগ ও ইসলামের প্রতি ভালোবাসার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
পবিত্র রমজানের শেষ দশকে এমন আধ্যাত্মিক পরিবেশ মুসলমানদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সংযম ও তাকওয়ার শিক্ষা ছড়িয়ে দেয়, যা ব্যক্তি, সমাজ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
