ইরাকের বসরা উপকূলের কাছে এক তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, জাহাজটিতে থাকা বাকি ১৫ জন ভারতীয় নাবিককে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বুধবার হামলার শিকার হওয়া তেল ট্যাংকারটির নাম সেইফসি বিষ্ণু। ইরান দাবি করেছে, পারস্য উপসাগরে পানির নিচ থেকে পরিচালিত মনুষ্যবিহীন যানের হামলায় দুটি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
হামলার শিকার দুটি জাহাজের একটি মাল্টার পতাকাবাহী জেফাইরোস এবং অন্যটি মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী সেইফসি বিষ্ণু। সেইফসি বিষ্ণু জাহাজটির মালিক যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি শিপিং কোম্পানি, আর জেফাইরোস জাহাজটি গ্রিসভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরকবোঝাই একটি আত্মঘাতী ইরানি নৌকা জাহাজ দুটিতে আঘাত হেনেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।
চলমান সংঘাতের মধ্যেই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতেও অন্তত তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রে জানা গেছে, একটি জাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলে আঘাতের শিকার হয়েছে, আরেকটি জাহাজ ওমানের উত্তরে আগুন লাগার কারণে খালি করতে হয়েছে এবং তৃতীয় একটি জাহাজ দুবাইয়ের উত্তর-পশ্চিমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর আগে ইরান সতর্ক করে বলেছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করলে যেকোনো জাহাজে হামলা চালানো হতে পারে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সাধারণত এই পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জানিয়েছে, তাদের সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসানোর কাজে ব্যবহৃত ইরানের ১৬টি জাহাজ ধ্বংস করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত এখন দ্বাদশ দিনে পৌঁছেছে।
এই উত্তেজনার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে।
