ইসলামি বর্ষপঞ্জির অষ্টম মাস শাবান। রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মাস রমজানের ঠিক আগের এই সময়টিকে বলা হয় আত্মিক প্রস্তুতির সুবর্ণ সুযোগ। আলেমদের ভাষায়, শাবান হলো রমজানের ‘রিহার্সাল মাস’—যেখানে একজন মুমিন নিজের আমল, চরিত্র ও নিয়তকে রমজানের উপযোগী করে গড়ে তোলেন।
হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসে অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশি নফল রোজা রাখতেন। এর মাধ্যমে তিনি উম্মতকে বুঝিয়ে দিয়েছেন—রমজানের আগে মানসিক ও আত্মিক প্রস্তুতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, শাবান মাসে সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো ইবাদতের অভ্যাস তৈরি করা। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়, নফল রোজা ও কোরআন তিলাওয়াতের রুটিন গড়ে তুললে রমজানে তা আরও সহজ ও গভীর হয়।
এ সময়টিকে তওবা ও আত্মসমালোচনার মাস হিসেবেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। আল্লাহর কাছে অতীতের গুনাহের জন্য ক্ষমা চাওয়া, নিয়ত পরিশুদ্ধ করা এবং নিজের আমল নিয়ে ভাবনার মাধ্যমে রমজানের জন্য অন্তর প্রস্তুত করার তাগিদ দেন আলেমরা।
শুধু ইবাদত নয়, চরিত্র গঠনের প্রস্তুতিও জরুরি। রাগ, হিংসা, গিবত, মিথ্যা ও অহেতুক কথাবার্তা পরিহারের অনুশীলন শাবান থেকেই শুরু করা উচিত। কারণ বিশুদ্ধ মন ছাড়া রমজানের ইবাদতের প্রকৃত স্বাদ পাওয়া যায় না।
শাবান মাসে বেশি বেশি দোয়া করার কথাও বলা হয়েছে। বিশেষভাবে প্রচলিত দোয়া—
“হে আল্লাহ, আমাদের রজব ও শাবান মাসে বরকত দিন এবং আমাদেরকে রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।”
ধর্মীয় বক্তারা আরও বলেন, এই মাসে দান-সদকার চর্চা বাড়ানো, দরিদ্র মানুষের খোঁজ নেওয়া এবং রমজানের বাস্তব প্রস্তুতি—যেমন দৈনন্দিন রুটিন ঠিক করা, পরিবারকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করা—এসবই রমজানকে ফলপ্রসূ করে তোলে।
আলেমদের মতে, শাবান হলো বীজ বপনের সময় আর রমজান হলো ফসল তোলার মাস। শাবানে যত বেশি প্রস্তুতি, রমজানে তত বেশি আত্মশুদ্ধি ও নৈকট্য অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়।
