২০২৬ সালের ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে শুরু হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপ ঘিরে একদিকে যেমন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে তেমনি বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জও সামনে এসেছে। টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র দুই মাস আগে এসব ইস্যু বিশ্বকাপ আয়োজনকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
ভ্রমণ ও ভিসা জটিলতা
বিশ্বকাপের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও দেশটির কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে অনেক দেশের দর্শকদের জন্য ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। সেনেগাল, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, কেপ ভার্দে ও আইভরি কোস্টের মতো অংশগ্রহণকারী দেশের দর্শকদের জন্যও জটিলতা তৈরি হয়েছে। কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য সরাসরি প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে, যা সমর্থকদের উপস্থিতি কমিয়ে দিতে পারে।
টিকিটের উচ্চমূল্য ও বিতর্ক
বিশ্বকাপ টিকিটের দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে। দর্শক সংগঠনগুলো অভিযোগ করছে, টিকিটের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বিশেষ করে ফাইনাল ও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর টিকিট কয়েক হাজার ডলারে পৌঁছানোয় এটি নিয়ে ইউরোপে অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। যদিও ফিফা কিছু সস্তা টিকিট ছাড়লেও সেগুলোর সংখ্যা সীমিত।
আবহাওয়া ও মাঠের অবস্থা
যুক্তরাষ্ট্রে জুন–জুলাই মাসে তীব্র গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া দেখা যায়, যা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে। এর আগে ক্লাব বিশ্বকাপে মাঠের খারাপ মান ও গরমের কারণে খেলোয়াড় ও কোচরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। অনেক ক্ষেত্রে ‘কুলিং ব্রেক’-এর প্রয়োজনও হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক সংঘাত ও অর্থনৈতিক প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয়ের চাপ বিশ্বকাপ ভ্রমণ ও আয়োজনকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলতে পারে।
নিরাপত্তা উদ্বেগ (মেক্সিকো)
মেক্সিকোতে মাদক-সংক্রান্ত সহিংসতা ও সংগঠিত অপরাধ এখনো বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ। বিশ্বকাপের কিছু ম্যাচ যেখানে অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপ আয়োজন বড় আকারের হলেও নানা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ টুর্নামেন্টের সফলতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।
