উচ্চঝুঁকিপূর্ণ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স-এর অংশগ্রহণকে বড় ধরনের কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, তাকে মূলত “ডিল ক্লোজার” বা চূড়ান্ত সমঝোতা নিশ্চিত করার দায়িত্বেই আলোচনায় আনা হয়েছে।
এর আগে স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত থাকলেও প্রত্যাশিত ফল আনতে পারেননি বলে মনে করছে প্রশাসন। তাই এবার সরাসরি ভ্যান্সকে সামনে আনা হয়েছে।
রাজনৈতিকভাবে ভ্যান্সকে একজন ‘আইসোলেশনিস্ট’ হিসেবে দেখা হয়—অর্থাৎ তিনি বিদেশি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার বিরোধী। শুরু থেকেই এই যুদ্ধের বিরোধিতা করে আসা ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে আলোচনায় তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান নিতে পারেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভ্যান্সকে নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন, যদিও সেগুলোর বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুটি লক্ষ্য স্পষ্ট।
প্রথমত, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথ হরমুজ প্রণালি সচল রাখা। এই প্রণালিতে বিঘ্ন ঘটলে বৈশ্বিক তেলের দাম বেড়ে যায়, যার প্রভাব সরাসরি মার্কিন অর্থনীতিতেও পড়ে।
দ্বিতীয়ত, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে আনা। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করাই এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান শর্ত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দুটি ইস্যুতে অগ্রগতি হলেই বাকি বিষয়গুলোতে আপসের সুযোগ থাকতে পারে। কারণ, দীর্ঘমেয়াদি এই সংঘাত এখন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও অজনপ্রিয় হয়ে উঠছে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে তুলছে।
সব মিলিয়ে, ইসলামাবাদের এই বৈঠকে ভ্যান্সের ভূমিকা নির্ধারণ করে দিতে পারে—যুদ্ধবিরতি টিকবে, নাকি আবারও উত্তেজনা বাড়বে।
