মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক টানাপোড়েন তীব্র হয়েছে। মঙ্গলবার আরব সাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন-এর দিকে দ্রুতগতিতে ধেয়ে আসা একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে মার্কিন বাহিনী। এর কয়েক ঘণ্টা পর হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কারকে থামানোর হুমকির ঘটনাও সামনে আসে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, ড্রোন ভূপাতিতের ঘটনাটি ঘটে দক্ষিণ ইরান উপকূল থেকে প্রায় ৫০০ মাইল দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, ড্রোনটি সতর্কতা উপেক্ষা করে রণতরিটির দিকে এগিয়ে এলে একটি যুদ্ধবিমান থেকে সেটি গুলি করে নামানো হয়।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, নজরদারি মিশনে থাকা একটি ড্রোনের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। তবে হারানোর আগে ড্রোনটি প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠিয়েছে বলে দাবি করা হয়।
পরবর্তী ঘটনায় হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন পতাকাবাহী একটি কেমিক্যাল ট্যাঙ্কারের কাছে ইরানের দুটি গানবোট ও একটি ড্রোন ঘোরাফেরা করে এবং রেডিও বার্তায় ট্যাঙ্কারটিকে থামার নির্দেশ দেয়। পরে মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার ও যুদ্ধবিমান ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উত্তেজনা প্রশমিত হয় এবং জাহাজটি নিরাপদে সরে যায়।
এদিকে সম্ভাব্য পারমাণবিক আলোচনা ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বৈঠকের স্থান ও আলোচনার পরিধি নিয়ে ইরানের নতুন শর্তের কথা কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও অঞ্চলটিতে অতিরিক্ত নৌ ও বিমান শক্তি মোতায়েন করেছে।
ড্রোন ভূপাতিতের খবরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি এক ডলারের বেশি বেড়েছে বলে আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষকদের তথ্য।
