মক্কা মুসলমানদের সবচেয়ে পবিত্র নগরী। হজ ও ওমরাহ পালনের কেন্দ্রস্থল এই নগরীর নির্দিষ্ট অংশকে বলা হয় হারাম শরিফ। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, এখানে অমুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। জীবজন্তু শিকার, গাছপালা ছেঁড়া কিংবা পরিবেশের ক্ষতি করাও হারাম এলাকায় নিষিদ্ধ।
হারাম এলাকার কেন্দ্রবিন্দু হলো মসজিদুল হারাম এবং এর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত কাবা শরিফ।
কাবা শরিফের উত্তর পাশে অর্ধবৃত্তাকার দেয়ালঘেরা অংশকে ‘হাতিম’ বলা হয়। ইসলামি বর্ণনায় উল্লেখ আছে, এই অংশ একসময় কাবাঘরের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাই এখানে নামাজ আদায় করা কাবাঘরের ভেতরে নামাজ পড়ার সমতুল্য বলে মনে করা হয়। দোয়া কবুলের জন্যও এটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ স্থান।
হাতিমের ওপর কাবার ছাদের সঙ্গে স্থাপিত সোনালি পরনালাকে বলা হয় ‘মিজাবে রহমত’। বৃষ্টির সময় এখান দিয়ে পানি ঝরে পড়ে এবং মুসল্লিরা এটিকে রহমতের প্রতীক হিসেবে মনে করেন।
হাজরে আসওয়াদ অর্থ কালো পাথর। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, এটি জান্নাত থেকে আগত একটি পাথর। বর্তমানে এটি কাবাঘরের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে সংরক্ষিত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই পাথর স্পর্শ ও চুম্বন করতেন। মুসলমানরা এটিকে বরকতময় নিদর্শন হিসেবে সম্মান করেন।
হাজরে আসওয়াদ ও কাবার দরজার মাঝের অংশকে ‘মুলতাজিম’ বলা হয়। অনেক হাজি ও ওমরাহ পালনকারী এখানে দাঁড়িয়ে বিশেষভাবে দোয়া করেন।
কাবার পূর্ব পাশে অবস্থিত মাকামে ইব্রাহিম-এ সংরক্ষিত রয়েছে সেই পাথর, যার ওপর দাঁড়িয়ে হজরত ইব্রাহিম (আ.) কাবা নির্মাণ করেছিলেন বলে ইসলামি বর্ণনায় উল্লেখ আছে। তাওয়াফ শেষে এই স্থানের পেছনে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা ওয়াজিব।
জমজম কূপ মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র একটি কূপ। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, শিশু হজরত ইসমাইল (আ.)-এর জন্য আল্লাহর রহমতে মরুভূমিতে এই পানির উৎস সৃষ্টি হয়েছিল।
মসজিদুল হারামের পূর্ব পাশে রয়েছে সাফা পাহাড় এবং পশ্চিম-উত্তরে মারওয়া পাহাড়। হজরত হাজেরা (আ.) তাঁর সন্তান ইসমাইল (আ.)-এর জন্য পানির সন্ধানে এই দুই পাহাড়ের মাঝে দৌড়েছিলেন। সেই স্মৃতিতে হাজিরা সাতবার যাতায়াত করেন, যাকে ‘সাঈ’ বলা হয়।
মিনা হজের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান, যেখানে হাজিদের নির্দিষ্ট দিনগুলোতে অবস্থান করতে হয় এবং কোরবানি সম্পন্ন করা হয়।
মিনার পাশেই রয়েছে তিনটি জামারাত বা শয়তানকে প্রতীকীভাবে পাথর নিক্ষেপের স্থান। ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, হজরত ইব্রাহিম (আ.)-কে শয়তান বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলে তিনি এই স্থানগুলোতে পাথর নিক্ষেপ করেছিলেন।
আরাফাত হজের অন্যতম প্রধান রুকন। ৯ জিলহজ হাজিদের এখানে অবস্থান করতে হয়। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, এখানেই হজরত আদম (আ.) ও হজরত হাওয়া (আ.) পুনর্মিলিত হয়েছিলেন এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন।
আরাফাত ময়দানে অবস্থিত জাবালে রহমত-কে করুণার পাহাড় বলা হয়। প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, বিদায় হজের ভাষণ এই এলাকার কাছ থেকেই প্রদান করেছিলেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)।
আজকের খবর/ এম.এস.এইচ
