নান্দাইল উপজেলার চন্ডীপাশা ইউনিয়নের চামারুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-এর অনেক শিক্ষার্থী ই-সিগারেট বা ভ্যাপিংয়ের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছে বলে উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। শিশুদের আবদার কিংবা খেলনা মনে করে অনেক অভিভাবক নিজেরাই এসব ডিভাইস কিনে দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আনেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কুশল রনি। উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ই-সিগারেট ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরেন, যা উপস্থিত সবার মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
পরদিন বিদ্যালয়ে খোঁজ নিতে গেলে প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষক বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন। তারা জানান, এটি অত্যন্ত ভয়াবহ পরিস্থিতি এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
বিদ্যালয়ের এক পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জানায়, বাড়ির পাশে একজনকে ই-সিগারেট ব্যবহার করতে দেখে সে কৌতূহলী হয়ে ওঠে। পরে কয়েক টাকা দিয়ে নিজেও সেটি ব্যবহার শুরু করে। একপর্যায়ে পরিবারের কাছে আবদার করলে তার বাবা প্রায় দেড় হাজার টাকা খরচ করে ডিভাইস কিনে দেন। এরপর থেকে তার শরীরে দুর্বলতা, খাওয়ায় অনীহা এবং পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রত্না খানম জানান, কয়েক মাস আগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণেই কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ধোঁয়া তৈরি করা ডিভাইস ব্যবহার করতে দেখা যায়। পরে বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক সমাবেশ করা হয়। সেখানে অনেক অভিভাবক স্বীকার করেন, তারা বিষয়টিকে খেলনা ভেবে সন্তানদের কিনে দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, পরে ইন্টারনেট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ই-সিগারেটের ক্ষতিকর দিক নিয়ে সচেতনতামূলক উপস্থাপনা করা হয়। একই সঙ্গে জানা গেছে, পাশের উপজেলার বিভিন্ন বাজারে সহজেই এসব ডিভাইস বিক্রি হচ্ছে এবং সেখান থেকেই শিশুরা এগুলো সংগ্রহ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ই-সিগারেট বা ভ্যাপিং শিশুদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এতে থাকা উচ্চমাত্রার নিকোটিন দ্রুত আসক্তি তৈরি করে এবং মস্তিষ্ক, ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া এর রাসায়নিক উপাদান শরীরে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির ঝুঁকিও বাড়ায়।
আজকের খবর/ এম.এস.এইচ
