কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উত্তর শীলখালী এলাকার গহীন পাহাড় থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় অপর দুইজনকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন—মুজিবুর রহমান, নুর বশর ও রবিউল আউয়াল। তারা সবাই বাহারছড়া শীলখালী গ্রামের বাসিন্দা।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অপহরণ ও মানবপাচারকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে নিহতদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও মানবপাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।
বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, মরদেহগুলোর শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং মাথায় গুরুতর জখমের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি বিরোধজনিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহত রবিউল আউয়ালের বাবা রুহুল আমিন জানান, রাতে মুজিব তার ছেলেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে সকালে পাহাড়ে ছেলের লাশ পড়ে থাকার খবর পান তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় কাঠুরিয়া বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ওই পাহাড়ি এলাকায় লোকজনকে জিম্মি করে রাখার ঘটনা বেড়েছে। মাঝেমধ্যে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দও শোনা যায়, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা নির্দেশ করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, টেকনাফের বাহারছড়া পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র অপহরণ ও মানবপাচার চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের ভয়ে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছে। সর্বশেষ এই হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
