ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হলেও দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী সমাধানের সম্ভাবনা এখনো দূরে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক সংকট গোষ্ঠীর (International Crisis Group) সিনিয়র ইসরায়েল বিশ্লেষক মাইরাভ জোনসজেইন।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু হওয়া অবশ্যই একটি “ব্রেকথ্রু”, তবে এই প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত টেকসই কোনো চুক্তির দিকে এগোবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, কূটনৈতিক এই পথ যদি লেবানন সরকারের অবস্থানকে শক্তিশালী করে এবং ধীরে ধীরে ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতি কমাতে সহায়তা করে, তবে তা রাজনৈতিকভাবে হিজবুল্লাহকে দুর্বল করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
জোনসজেইনের মতে, বর্তমান যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের ভেতরে বাস্তুচ্যুত জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়বে এবং তারা নিজেদের “ক্ষুব্ধ ও পরাজিত” হিসেবে অনুভব করতে পারে। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একটি গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক বর্ণনা দাঁড় করাতে চাপে থাকবেন, কারণ জনমতের একটি বড় অংশ যুদ্ধ অব্যাহত রাখার পক্ষে।
তিনি আরও দাবি করেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের গভীরে কিছু অবস্থান ধরে রাখলেও এবং সীমিতভাবে অভিযান চালানোর সুযোগ পেলেও, এই সমঝোতাকে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের চাপের ফল হিসেবে দেখছেন। তাঁর ভাষায়, এটি এমন একটি রাজনৈতিক বাস্তবতা যেখানে যুদ্ধের চেয়ে কূটনৈতিক সমঝোতার চাপ ধীরে ধীরে বাড়ছে, যদিও পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি এখনো অনেক দূরে।
