মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ইরানের পাল্টা হামলায় অঞ্চলে থাকা একাধিক মার্কিন ঘাঁটি গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে এসব ঘাঁটি এখন সুবিধার চেয়ে ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু ঘাঁটি প্রায় বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। যদিও এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি ট্রাম্প প্রশাসন।
মার্ক লিঞ্চ, যিনি জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়-এর মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতি বিভাগের পরিচালক, বলেন—“এগুলোই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের মূল কাঠামো। ইরান অল্প সময়ের মধ্যেই তা কার্যত অকার্যকর করে দিয়েছে।”
তিনি আরও জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে পরিষ্কার তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।
বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের ঘাঁটির পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, “পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে এই ঘাঁটি আগের মতো কার্যকর থাকবে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।”
অন্যদিকে, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক বিশেষজ্ঞ শানা আর মার্শাল বলেন, “যখন কোনো নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব একপক্ষের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়, তখন সেই সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ে।”
এছাড়া কুইন্সি ইনস্টিটিউট-এর গবেষক তৃতা পার্সি মন্তব্য করেন, এই ঘাঁটিগুলো ইরানের হামলা ঠেকাতে পারেনি, বরং নিজেই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আস্থা কমে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের নিরাপত্তা কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে পারে, যা ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
