যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লেবাননে ইসরাইলের ব্যাপক বিমান হামলা নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতি পুরো যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়াকেই অচল করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
বুধবার লেবাননজুড়ে ইসরাইলি হামলায় ২৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। বৈরুত, বেকা উপত্যকা এবং দক্ষিণাঞ্চলের জনবহুল এলাকাগুলোতে শতাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়। এতে বহু মানুষ আহত হন এবং হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা তৈরি হয়।
এই হামলার সময়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একই দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই সমঝোতায় সব ফ্রন্টে হামলা বন্ধ থাকার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে তীব্র মতবিরোধ।
পাকিস্তান ও ইরানের দাবি, যুদ্ধবিরতি লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে প্রযোজ্য। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বলছে, এই চুক্তি শুধুমাত্র তাদের সরাসরি সংঘাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং লেবানন ‘আলাদা যুদ্ধক্ষেত্র’। এই ভিন্ন ব্যাখ্যাই এখন সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননকে ঘিরে এই বিভ্রান্তিই যুদ্ধবিরতির সবচেয়ে দুর্বল দিক। কারণ, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ সেখানে একটি প্রধান শক্তি। লেবাননে হামলা চলতে থাকলে ইরান চাপের মুখে পড়বে এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাতে বাধ্য হতে পারে, যা পুরো যুদ্ধবিরতিকে ভেঙে দিতে পারে।
আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘ সতর্ক করে জানিয়েছে, লেবাননের পরিস্থিতি এই যুদ্ধবিরতির জন্য ‘গুরুতর ঝুঁকি’। ইউরোপীয় দেশগুলোও হামলার নিন্দা জানিয়ে লেবাননকে যুদ্ধবিরতির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতির শর্ত ও বাস্তবতার এই অসামঞ্জস্য এবং লেবাননে চলমান হামলা শান্তি প্রচেষ্টাকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। এখন নির্ধারিত কূটনৈতিক বৈঠকের আগেই এই সংকট সমাধান না হলে পুরো প্রক্রিয়াই ভেস্তে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
