ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিতর্কিত ও উস্কানিমূলক বক্তব্যের জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এর মধ্যেই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে—অভ্যন্তরীণ চাপ কি এই সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে?
মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরাতে সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ কিংবা অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কানেকটিকাটের এক ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ইতোমধ্যে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিশংসন প্রস্তাব দাখিল করেছেন।
বিরোধী আইনপ্রণেতাদের দাবি, একটি পুরো সভ্যতাকে ধ্বংসের হুমকি এবং সাম্প্রতিক অসংলগ্ন বক্তব্য শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
ডেমোক্র্যাট নেতাদের ভাষ্য, প্রেসিডেন্টের আচরণ দিন দিন অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। তারা সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে কংগ্রেসকে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।
সিনেটের কয়েকজন সদস্য ট্রাম্পকে ‘বিশ্বের জন্য স্পষ্ট ঝুঁকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যদিও বর্তমানে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে অভিশংসন প্রক্রিয়া এগোনো কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের অবস্থানের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছে, তাঁর কঠোর অবস্থানের কারণেই ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি খুলতে রাজি হয়েছে।
তবে কেবল ডেমোক্র্যাটরাই নয়, রিপাবলিকান শিবিরের ভেতর থেকেও সমালোচনা শুরু হয়েছে। কিছু প্রভাবশালী ডানপন্থী ব্যক্তিত্বও ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির বিরোধিতা করেছেন।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সাময়িক স্বস্তি দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গনে যে গভীর বিভাজন তৈরি হয়েছে, তা এখন বড় ধরনের সংকটে রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
