দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় আজ রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। প্রথম পর্যায়ে ১৮ জেলার ৩০টি নির্বাচিত উপজেলায় এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, যেসব এলাকায় হাম সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি, সেসব অঞ্চলকে অগ্রাধিকার দিয়ে তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে বরগুনা সদর উপজেলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নির্বাচিত ৩০টি উপজেলায় রয়েছে—
বরগুনা সদর; বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ; চাঁদপুরের হাইমচর ও সদর; কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু; ঢাকার নবাবগঞ্জ; গাজীপুর সদর; যশোর সদর; ঝালকাঠির নলছিটি; মাদারীপুর সদর; মুন্সিগঞ্জের লৌহজং, সদর ও শ্রীনগর; ময়মনসিংহের ত্রিশাল, সদর ও ফুলপুর; নাটোর সদর; নেত্রকোনার আটপাড়া; নওগাঁর পোরশা; চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, সদর ও ভোলাহাট; পাবনার ঈশ্বরদী, সদর, আটঘরিয়া ও বেড়া; রাজশাহীর গোদাগাড়ী এবং শরীয়তপুরের জাজিরা।
এই বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী মোট ১২ লাখ ৩ হাজার ২৬৭ শিশুকে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার (১ এপ্রিল) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, যেসব উপজেলায় হামের সংক্রমণ বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে, সেখানে দ্রুত টিকা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের দ্রুত সুরক্ষার আওতায় আনতে মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। এ কারণে স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি স্থগিত করা হয়েছে এবং টিকাদান কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ইউনিসেফ থেকে পাওয়া প্রায় ১৯ লাখ ডোজ টিকা এ কর্মসূচিতে ব্যবহার করা হবে। ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের এই টিকাদানের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
