ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক অবস্থানের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় এই পরিবর্তন ঘটেছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬২২ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৬৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
দিনের শুরুতে স্বর্ণের দাম দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালেও যুদ্ধসংক্রান্ত মন্তব্যের পর তা দ্রুত পড়ে যায়। তেলের দাম একদিনেই প্রায় ৬ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের মূল্যবৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়েছে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমাতে নাও পারে—এমন ধারণা জোরালো হচ্ছে। এতে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ থেকে সরে গিয়ে ডলারের দিকে ঝুঁকছেন।
এদিকে মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড ও ডলার সূচক শক্তিশালী হওয়ায় সুদহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে গেছে। ফলে স্বর্ণবাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
অন্য ধাতুগুলোর বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম কমেছে প্রায় ৪ দশমিক ৯ শতাংশ, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামেও পতন লক্ষ্য করা গেছে।
