মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক মিত্রদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার রাতে হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি বলেন, ইসরায়েল, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইন এই যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
ট্রাম্প বলেন, “তারা অসাধারণ কাজ করছে এবং আমরা আমাদের মিত্রদের কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেব না।” তার এই বক্তব্যকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান আরও জোরদার করার বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ভাষণে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের কথাও স্বীকার করেন। তবে তিনি এর জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করে বলেন, ইরানের হামলার কারণেই তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তার দাবি, বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজ ও আঞ্চলিক স্থাপনায় হামলার মাধ্যমে ইরান পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে।
তিনি আশ্বস্ত করেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হবে না এবং এটি সাময়িক সংকট।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকার দেওয়া যাবে না। তারা এই অস্ত্র পেলে তা ব্যবহার করতে দ্বিধা করবে না।”
এদিকে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে মিত্র দেশগুলোর প্রতি সরাসরি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, এই জলপথ পুনরুদ্ধার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকেই এগিয়ে আসতে হবে।
তার ভাষায়, “প্রণালীতে যাও, তা দখল করো এবং রক্ষা করো।” এই আহ্বান বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই আঞ্চলিক জোট এবং ইরানের পাল্টা অবস্থান—দুই পক্ষের সংঘাত বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আজকের খবর/ এম.এস.এইচ
