মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি আলোচনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় এসেছে পাকিস্তানের কূটনৈতিক ভূমিকা। একাধিক সূত্রের দাবি, আলোচনায় অংশ নিতে পারেন—এমন দুই ইরানি নেতাকে লক্ষ্যবস্তু না করতে ইসরায়েলকে অনুরোধ জানিয়েছিল ইসলামাবাদ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দুই ব্যক্তি হলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। পাকিস্তানের একটি সূত্র জানায়, তাদের ‘হিট-লিস্টে’ রেখেছিল ইসরায়েল। পরে যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে অনুরোধ জানানো হলে তেল আবিব ওই দুই নেতার নাম তালিকা থেকে সরিয়ে নেয়।
সূত্রটি আরও জানায়, এই দুই নেতার অবস্থান সম্পর্কেও সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল ইসরায়েলের কাছে। পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে জানায়, তাদের হত্যা করা হলে আলোচনার মতো কার্যকর নেতৃত্ব আর অবশিষ্ট থাকবে না, যা কূটনৈতিক সমাধানের পথ বন্ধ করে দিতে পারে।
এদিকে ইসলামাবাদে অবস্থানরত ইরানি দূতাবাসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তানে সম্ভাব্য আলোচনা এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তেহরান এই স্থানকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানি নেতারা গোপনে আলোচনায় যুক্ত রয়েছেন এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এই দাবি অস্বীকার করা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করে বলেছেন, বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানকে সরাসরি আলোচনা বলা যায় না। তিনি জানান, একটি প্রস্তাব পর্যালোচনায় থাকলেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসার পরিকল্পনা নেই।
সব মিলিয়ে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও প্রকাশ্য অবস্থান ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে পার্থক্য রয়ে গেছে। ফলে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।
আজকের খবর/ এম.এস.এইচ
