যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের সামরিক সক্ষমতা জোরদার করতে ধাপে ধাপে ড্রোন, ওষুধ ও খাদ্য সামগ্রী পাঠাচ্ছে রাশিয়া—এমন দাবি উঠেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য সামনে এসেছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির প্রথম দফা হামলার পরপরই ড্রোন সরবরাহ নিয়ে মস্কো ও তেহরানের শীর্ষ পর্যায়ে গোপন আলোচনা শুরু হয়। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা, চলতি মাসের শুরু থেকেই এই সরবরাহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তা সম্পন্ন হতে পারে।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানের সহায়তা পাওয়ার পর এবার মস্কোও তেহরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পাশে দাঁড়াচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর হচ্ছে।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ তৈরি করতে মস্কো এমন প্রস্তাবও দিয়েছে যে, ওয়াশিংটন যদি কিয়েভকে গোয়েন্দা সহায়তা বন্ধ করে, তাহলে রাশিয়াও ইরানকে তথ্য দেওয়া বন্ধ করবে।
জেলেনস্কি আরও দাবি করেন, রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইরানকে গোয়েন্দা সহায়তা দেওয়ার প্রমাণ তার কাছে রয়েছে, যদিও তিনি বিস্তারিত প্রকাশ করেননি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, বর্তমানে অনেক ভুয়া খবর ছড়ানো হচ্ছে। তিনি স্বীকার করেন, ইরানের সঙ্গে সংলাপ অব্যাহত রয়েছে, তবে ড্রোন সরবরাহের বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি।
উল্লেখ্য, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অন্যতম প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ ড্রোন, যা দিয়ে নিয়মিত হামলা চালানো হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাশিয়া-ইরান সামরিক সহযোগিতার এই অভিযোগ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আজকের খবর/ এম.এস.এইচ
