মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সম্ভাব্য কোনো যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রেও ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় থাকা গুরুত্বপূর্ণ। চার সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালালেও এখন তেহরান তাদেরকে আলাদা কৌশলগত সত্তা হিসেবে বিবেচনা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েস্ট এশিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হাসান আহমাদিয়ান বলেন, ইসরায়েল নিজস্ব সময়সূচি ও লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান থেকে ভিন্ন। তার মতে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালাতে পারে, তবে সেখানে ইসরায়েলের সরাসরি সম্পৃক্ততা নাও থাকতে পারে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য সবসময় ইসরায়েলের পদক্ষেপের প্রতিফলন নাও হতে পারে।
বিশ্লেষকের মতে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় ইরান ও লেবাননকে একই অবস্থানে থাকতে হবে। ইরান এককভাবে যুদ্ধবিরতিতে গেলে লেবাননকে ইসরায়েলি সামরিক চাপে ফেলে রাখা উচিত নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, তেহরানের উচিত আঞ্চলিক পর্যায়ে সমন্বিত যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া, কারণ অতীতে ইরান বা লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতিগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সম্মান করেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
তার ভাষায়, কৌশলগতভাবে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা দরকার, যেখানে সব যুদ্ধবিরতি একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। এতে করে কোনো পক্ষ চুক্তি লঙ্ঘনের আগে একাধিকবার ভাবতে বাধ্য হবে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ হলে ইরান ও হিজবুল্লাহ যেন একে অপরের ওপর নির্ভর করতে পারে—এমন সক্ষমতা গড়ে তোলা জরুরি।
আজকের খবর/ এম.এস.এইচ
