মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর নামে সিন্ডিকেট গঠন করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় লে. জে. মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখানোর প্রক্রিয়া চলছে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১১ মার্চ দায়ের করা মামলায় তার বিরুদ্ধে এক হাজার ১২৮ কোটি ৬১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়। তিনি ‘ফাইভ-এম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক। এ মামলায় তার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
একই ঘটনায় জনশক্তি রপ্তানির নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট সৃষ্টি এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে ১৩টি প্রতিষ্ঠানের ৩৩ মালিকের বিরুদ্ধে আরও ১২টি মামলা অনুমোদন দেয় দুদক। এসব মামলায় বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, কিছু আসামি দেশত্যাগ করেছেন, কেউবা আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা থাকায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী দেশেই অবস্থান করছিলেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিএমইটি ও বায়রার নিয়ম ভঙ্গ করে শ্রমিকদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফি’র তুলনায় কয়েকগুণ বেশি অর্থ আদায় করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহ করে তা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করার অভিযোগও রয়েছে।
এদিকে, সোমবার রাতে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাকে আটক করে। সুনির্দিষ্ট মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি চলছে। গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
দুদক মামলার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা রয়েছে, যেগুলোর বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে।
