ফেনীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের মধ্যে ভয়াবহ তিনমুখী সংঘর্ষে তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় আরও ১১ জন আহত হয়েছেন।
রোববার (২২ মার্চ) ভোর পৌনে ৪টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলেন — মোহাম্মদ মোরশেদ (৩৮) ও মোহাম্মদ সোহাগ (৩৯)। তৃতীয় ব্যক্তির পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তাঁদের মরদেহ ফেনী সদর হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত আছে। আহতদের কারও নাম-পরিচয়ও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মহিপাল হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুল ইসলাম জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী-রামপুর এলাকায় চট্টগ্রামমুখী একটি লেনে একটি ব্রিজের মেরামত কাজ চলছিল। ব্রিজের ঠিক আগে স্পিডব্রেকারে একটি অ্যাম্বুলেন্স মন্থর গতিতে অতিক্রম করছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে একটি যাত্রীবাহী বাস পেছন থেকে এসে অ্যাম্বুলেন্সটিতে আঘাত করে।
এই সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের লোকজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হলে পেছনে মোটরসাইকেলসহ আরও বেশ কয়েকটি যানবাহনের দীর্ঘ জট তৈরি হয়। এর অল্প কিছুক্ষণ পরই অনিয়ন্ত্রিত গতিতে ধেয়ে আসা আরও একটি যাত্রীবাহী বাস সেই জটলার মধ্যে আছড়ে পড়ে। ফলে বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের মধ্যে ভয়ংকর সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। এতে একজন মোটরসাইকেল আরোহী, একটি বাসের সুপারভাইজার এবং একজন যাত্রী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান এবং ১১ জন আহত হন।
ফেনীর সিভিল সার্জন ও ফেনী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা. রুবাইয়াত বিন করিম জানান, ভোরবেলা সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বেশ কয়েকজনকে এই হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, অবশিষ্ট আহতদের মধ্যে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত তিনজনকে উন্নততর চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। একজন এখনও এই হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এ ছাড়া বাকি ৭ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদক আজকের খবর
