ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর আহ্বান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইউরোপের প্রধান মিত্র দেশগুলো। জার্মানি, ফ্রান্স ও স্পেন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে—এই যুদ্ধ তাদের নয় এবং এতে তারা জড়াবে না।
জার্মানির পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই সামরিক অভিযানের যৌক্তিকতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ইউরোপের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই ওয়াশিংটন সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে তিনি জানান, যুদ্ধ চলাকালে জার্মানি হরমুজ প্রণালীতে কোনো সামরিক কার্যক্রমে অংশ নেবে না।
জার্মানির এই অবস্থানের সঙ্গে একমত হয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। ম্যাক্রোঁ স্পষ্ট করে বলেছেন, ফ্রান্স এই সংঘাতের কোনো পক্ষ নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন অভিযানে যোগ দেবে না। অন্যদিকে সানচেজ এই হামলাকে “বেপরোয়া ও অবৈধ” বলে আখ্যা দিয়েছেন।
স্পেন আরও কঠোর অবস্থান নিয়ে জানিয়েছে, যুদ্ধের প্রয়োজনে তাদের ভূখণ্ডে থাকা যৌথ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বাণিজ্যিক চাপের হুমকিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে না দেশটি। স্পেনের নেতারা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, তারা কোনোভাবেই অন্য দেশের অনুসারী হিসেবে কাজ করবে না।
ইউরোপীয় দেশগুলোর এই সিদ্ধান্তের পেছনে জনমতেরও বড় প্রভাব রয়েছে। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, ব্রিটেন, জার্মানি ও স্পেনের বেশিরভাগ মানুষই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার বিরোধিতা করছেন। ফলে রাজনৈতিক নেতৃত্বও জনমতের প্রতিফলন ঘটিয়ে সংঘাত থেকে দূরে থাকার কৌশল নিয়েছে।
এদিকে ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধের উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। তারা আশঙ্কা করছে, এটি মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। তাই সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধান খোঁজার দিকেই জোর দিচ্ছে ইউরোপ।
ফ্রান্স ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই ইউরোপীয়, এশীয় ও উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিয়ে একটি নতুন জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে, যা ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমাতে কাজ করবে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কালাস জানিয়েছেন, অনিশ্চিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউরোপ এখন আগের চেয়ে বেশি সতর্ক ও সংযত অবস্থান নিয়েছে।
আজকের খবর/ এম.এস.এইচ
