ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপে সৃষ্টি হয়েছে ধীরগতি ও আংশিক যানজট। টাঙ্গাইল থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে চলছে যানবাহন, ফলে ঘরমুখো যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে।
মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার কদিমধল্যা থেকে করটিয়া পর্যন্ত প্রায় ১৬ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের প্রভাব দেখা গেছে। বিশেষ করে ইচাইল থেকে কদিমধল্যা পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এলাকায় যান চলাচল বারবার স্থবির হয়ে পড়ছে।
বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়জুড়ে দীর্ঘ যানবাহনের সারি। কোথাও পুরোপুরি স্থবির না হলেও ধীরগতিতে চলাচল করছে গাড়িগুলো। রাজশাহীগামী বাসচালক শহিদুল ইসলাম জানান, ভোরে ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে দীর্ঘ সময় সাভার ও চন্দ্রা এলাকায় যানজটে পড়তে হয়েছে, এরপরও পুরো পথজুড়ে ধীরগতিতে চলতে হয়েছে।
বগুড়াগামী যাত্রী আশরাফ আলী বলেন, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে এক ঘণ্টায় টাঙ্গাইল পৌঁছানো যায়, সেখানে এখন কয়েক ঘণ্টা সময় লাগছে।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যার পর থেকেই মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন অংশে যানজট শুরু হয়, যা রাতের দিকে দীর্ঘস্থায়ী হয়। রাতের শেষভাগে কোনো কোনো স্থানে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে যানবাহন আটকে থাকে। তবে সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।
ট্রাকচালক গোলাম হোসেন জানান, আগের দিন সন্ধ্যায় যাত্রা শুরু করলেও গন্তব্যে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। একইভাবে বাসচালকরাও জানিয়েছেন, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি সময় লাগছে।
হাইওয়ে পুলিশের এলেঙ্গা ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শরীফ বলেন, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণেই ধীরগতি সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এদিকে যমুনা সেতুর টোল প্লাজা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিপুল সংখ্যক যানবাহন সেতু পারাপার হয়েছে। ঢাকামুখী ও উত্তরবঙ্গমুখী উভয় দিকেই গাড়ির চাপ বেড়েছে, যার ফলে টোল আদায়ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের ছুটি ঘনিয়ে আসায় আগামী কয়েকদিন মহাসড়কে যানচাপ আরও বাড়তে পারে।
