ইনকিলাব মঞ্চের শহীদ মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) প্রতিবেদন জমা দিতে আরও চার দিন সময় দিয়েছেন আদালত।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত দিন থাকলেও তদন্ত কর্মকর্তা তা জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, এ মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় ইতোমধ্যে তিন দফা পেছানো হয়েছে। সর্বশেষ নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২৯ জানুয়ারির মধ্যেই সিআইডিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। শুরুতে মামলাটির তদন্তভার ডিবির ওপর থাকলেও পরবর্তীতে সিআইডিকেও যুক্ত করা হয়।
মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি হিসেবে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনের নাম রয়েছে। এদের মধ্যে ফয়সাল করিমসহ পাঁচজন এখনও পলাতক। এ ছাড়া হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারসহ বিভিন্ন ঘটনায় গ্রেপ্তার কয়েকজন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে শরিফ ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
পরদিন ১৯ ডিসেম্বর হাদির মরদেহ দেশে আনা হয়। ২০ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদসংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর রাতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় হত্যা চেষ্টার মামলা করেন। পরবর্তীতে হাদি মারা গেলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।
