তীব্র তিক্ত স্বাদের কারণে অনেকের অপছন্দের তালিকায় থাকলেও করলার রস দীর্ঘদিন ধরেই ঘরোয়া প্রতিকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে বিপাকীয় স্বাস্থ্য ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে করলার রসের ভূমিকা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। নিয়মিত ও পরিমিতভাবে করলার রস পান করলে শরীরে ধীরে ধীরে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।
প্রথমত, করলার রস রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। করলায় থাকা চ্যারান্টিন ও পলিপেপটাইড-পি নামের উপাদান ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে শরীর গ্লুকোজ ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারে এবং অতিরিক্ত চিনি চর্বিতে রূপান্তরিত হওয়ার প্রবণতা কমে। এতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ওজন ব্যবস্থাপনাতেও সহায়তা মিলতে পারে।
দ্বিতীয়ত, করলার রস হজম প্রক্রিয়া সক্রিয় করতে সহায়তা করে। এর প্রাকৃতিক তিক্ততা হজম এনজাইম উদ্দীপিত করে, যা পেট ফাঁপা কমাতে ও অন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করতে পারে। করলায় থাকা ফাইবার অন্ত্রের স্বাভাবিক গতি বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে সংবেদনশীল পাচনতন্ত্রের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত করলার রস অস্বস্তির কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
তৃতীয়ত, কম ক্যালোরি ও ফাইবারসমৃদ্ধ হওয়ায় করলার রস ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। নিয়মিত অভ্যাস হিসেবে এটি পেট ভরা ভাব তৈরি করে, হঠাৎ অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমাতে সাহায্য করে। ফলে সুষম খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে যুক্ত হলে ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে।
চতুর্থত, করলায় রয়েছে ভিটামিন সি ও পলিফেনলের মতো শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। দীর্ঘমেয়াদে নিয়মিত করলার রস পান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং সামগ্রিক কোষীয় স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
পঞ্চমত, করলার রস হরমোন ও বিপাকীয় ভারসাম্য রক্ষায়ও সহায়ক বলে মনে করা হয়। এটি ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে পারে এবং প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাসের মাধ্যমে হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতেও সহায়তা করতে পারে। তবে যারা নিয়মিত হাইপোগ্লাইসেমিক ওষুধ গ্রহণ করেন, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া করলার রস নিয়মিত গ্রহণ না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
