জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ডাকাতি ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
রোববার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুর ১২টায় জয়পুরহাটে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা এবং কালাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, গত ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ গভীর রাতে (প্রায় রাত ২টার দিকে) কালাই উপজেলার নান্দাইল পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোছাঃ শাহানার বেগম (৪২)-এর বসতবাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা বাড়ির বারান্দার গ্রিলের তালা কেটে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ধারালো অস্ত্রের মুখে শাহানার বেগমকে জিম্মি করে শয়নকক্ষের স্টিলের বক্স ভেঙে নগদ সাত লাখ টাকা, প্রায় ছয় ভরি স্বর্ণালংকার, কানের স্বর্ণের রিং ও একটি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।
ডাকাতির সময় শাহানার বেগমকে গুরুতরভাবে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে চিকিৎসক তার কানে আটটি সেলাই দেন।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী শাহানার বেগম কালাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ডাকাতি ও অস্ত্র ব্যবহারজনিত ধারায় রুজু হয়। এরপর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে প্রধান আসামিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মোঃ মোতালেব হোসেন, মোঃ সবুজ মিয়া (২৮), মোঃ আঞ্জুমান (২৮), মোহাম্মদ আলী (৪০) ও মোঃ বিপুল (২৮)।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তারা একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য এবং বিভিন্ন জেলায় সংঘটিত একাধিক ডাকাতি মামলার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্যও মিলেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
