কুমিল্লা মহানগরীর জাঙ্গালিয়া এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশন এবং র্যাব-১১ (সিপিসি-২) যৌথভাবে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং এক সন্ত্রাসী নাজমুল ইসলাম শামীমকে গ্রেপ্তার করেছে।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) গভীর রাত থেকে ভোর ছয়টা পর্যন্ত চলা অভিযানে সেনাবাহিনী সূত্র জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে সন্দেহভাজন শামীমের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে স্থানীয়ভাবে তৈরি ৩টি পাইপগানসহ দেশি ও বিদেশি অস্ত্র-গোলাবারুদ এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে আরও ৬০ রাউন্ড শটগান কার্তুজ (১২ বোর × ৭০ মিমি – ৪০ রাউন্ড ও ১২ বোর × ৭৬ মিমি – ২০ রাউন্ড), ১৮ রাউন্ড মেশিনগান গোলাবারুদ (৭.৬২×৫৪ মিমি, পিওএফ নির্মিত), ১ রাউন্ড পিস্তল গোলাবারুদ (টোকারেভ, ৭.৬২×২৫ মিমি), ১ রাউন্ড রিভলভার/এয়ারগান গোলাবারুদ, ১০টি ছুরি, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়ালসহ দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, আটটি মানিব্যাগ, এটিএম কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও এনআইডি জব্দ করা হয়।
পরবর্তীতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জিপিএস ও লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে সন্দেহভাজন শামীমকে আটক করা হয়। তিনি মহানগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ড জাঙ্গালিয়া এলাকার মরহুম আব্দুল হালিমের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শামীম জাঙ্গালিয়া বাসস্ট্যান্ডের সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচিত। তিনি আগে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন এবং কুমিল্লা শহরের একজন চিহ্নিত বড় চাঁদাবাজ হিসেবে কুখ্যাত। ভয়ের কারণে অনেকেই তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না।
শামীমের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ কমপক্ষে সাতটি মামলা করেছেন।
গ্রেপ্তারের পর অস্ত্র ও অন্যান্য জব্দকৃত মালামালসহ তাকে র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
