মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
أَمِ ٱتَّخَذُوۤاْ آلِهَةً مِّنَ ٱلأَرْضِ هُمْ يُنشِرُونَ (٢١)
সরল অনুবাদ:
তারা যেসব মাটির দেবতা গ্রহণ করেছে, সেগুলো কি মৃতকে জীবিত করতে সক্ষম?
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা:
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের ভ্রান্ত বিশ্বাসকে প্রশ্নের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করেছেন। আরবের মুশরিকরা মাটির তৈরি মূর্তিকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছিল। অথচ এসব মূর্তির কোনো ক্ষমতা নেই—না তারা সৃষ্টি করতে পারে, না জীবন দিতে পারে, এমনকি নিজেদের কোনো উপকার বা ক্ষতিও করতে পারে না।
এখানে “يُنشِرُونَ” শব্দের অর্থ—মৃত বা প্রাণহীন কিছুকে পুনরায় জীবিত করা। অর্থাৎ, আল্লাহ প্রশ্ন করছেন—তোমরা যাদের উপাস্য বানিয়েছ, তারা কি মৃতকে জীবিত করতে পারে?
উত্তর স্পষ্ট—কখনোই না।
তাফসিরবিদদের মতে, এই প্রশ্নের উদ্দেশ্য হলো মানুষকে চিন্তা করতে বাধ্য করা। কারণ মুশরিকরাও স্বীকার করত, জীবন দান ও গ্রহণ করার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহরই।
মূল শিক্ষাসমূহ:
১. মানুষ যেসব সৃষ্টি (মাটি, মূর্তি বা অন্য কিছু) উপাস্য বানায়, তাদের কোনো প্রকৃত ক্ষমতা নেই।
প্রকৃত ক্ষমতার মালিক একমাত্র আল্লাহ।
২. কোনো সৃষ্টি কখনো জীবন দিতে পারে না। জীবন দান ও মৃত্যু—সবকিছুই আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে।
৩. অন্ধ অনুসরণ না করে যুক্তি দিয়ে চিন্তা করা জরুরি। যে ‘উপাস্য’ কিছুই করতে পারে না, সে কিভাবে উপাস্য হতে পারে?
৪. মানুষ নিজে যা তৈরি করে, তা কখনোই তার স্রষ্টা হতে পারে না। সৃষ্টি ও স্রষ্টার মধ্যে পার্থক্য এই আয়াতে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
উপসংহার:
এই আয়াত আমাদেরকে এক আল্লাহর একত্ববাদে দৃঢ় থাকার আহ্বান জানায়। সকল ইবাদত, ভরসা ও আনুগত্য একমাত্র আল্লাহর জন্যই নির্ধারিত হওয়া উচিত।
