প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট শেয়ার করার অভিযোগে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় আজিজুল হক নামে এক যুবককে গ্রেফতারের ঘটনায় নতুন করে আইনের অপব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গত ২৬ মার্চ রাতে তাকে বিনা পরোয়ানায় আটক করে পুলিশ। তবে গ্রেফতারের পরদিন তার বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ও সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ জানায়, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় আজিজুল হককে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বিস্তারিত বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি বাদী। তবে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর রাজনৈতিক কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত গ্রেফতারের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। যদিও পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
পুলিশের দাবি, পোস্টটি ভাইরাল হওয়ায় এবং অপরাধ সংঘটিত হয়েছে মনে হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, আগের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল হলেও নতুন সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশেও একই ধরনের বিতর্কিত ধারা রয়ে গেছে।
তাদের মতে, এই আইনের ৩৫(ঘ) ধারায় পুলিশকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের ক্ষমতা দেওয়ায় অপব্যবহারের সুযোগ থেকেই যাচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা বলছেন, বারবার আইন পরিবর্তন করা হলেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক ধারা এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলের কেউ কেউ বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পোস্ট অবশ্যই আইনের আওতায় আনা উচিত, না হলে সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল—সাইবার আইনের প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
