ইরানে ভূপাতিত হওয়া মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারের অভিযান বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে উদ্ধার অভিযানের সময় ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কা থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে।
লন্ডনের কিংস কলেজের ভিজিটিং লেকচারার সামি পুরি বলেন, একজন পাইলটকে খুঁজে বের করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। কারণ, এটি কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য নয়—বরং বিশাল এলাকা জুড়ে একজন ব্যক্তিকে খোঁজার বিষয়। ওই এলাকা আংশিক পাহাড়ি এবং আংশিক মরুভূমি হওয়ায় অনুসন্ধান আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি জানান, স্যাটেলাইট বা আধুনিক প্রযুক্তি কিছুটা সহায়তা করতে পারলেও শেষ পর্যন্ত বিমানকে নিচু দিয়ে উড়ে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। আর এতে উদ্ধারকারী বাহিনী সরাসরি শত্রুপক্ষের হামলার ঝুঁকিতে পড়বে।
পুরির ভাষ্য, “পাইলটকে খুঁজে বের করতে হলে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করতে হবে, আর সেই সময় বিমানগুলোকে শত্রুর গুলির ঝুঁকি নিয়েই উড়তে হবে।”
তিনি আরও বলেন, যদি ইরান দ্রুত সময়ের মধ্যে আরেকটি মার্কিন বিমান ভূপাতিত করতে পারে, তাহলে তা তাদের জন্য বড় কৌশলগত সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে।
এদিকে, যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্যও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। কারণ, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আকাশসীমায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকার দাবি করা হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্ধার অভিযান শুধু একটি সামরিক অপারেশন নয়, বরং এটি দুই পক্ষের জন্যই বড় কৌশলগত ও মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে পরিণত হতে পারে।
