ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার খবরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে—এমন পরিস্থিতিতে পাইলটরা কীভাবে নিজেদের রক্ষা করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, শত্রুপক্ষের ভূখণ্ডে ভূপাতিত হওয়া মানেই শুরু হয় বাঁচার এক কঠিন লড়াই।
মার্কিন বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিউস্টন ক্যান্টওয়েলের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পরিস্থিতির জন্য পাইলটদের আগেই বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া থাকে। এতে থাকে অনুসন্ধান এড়ানো, আটক থেকে বাঁচা, আত্মগোপন এবং নিরাপদে ফিরে আসার কৌশল।
তিনি জানান, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের পর প্যারাস্যুটে করে নামার সময়ই পাইলট চারপাশ পর্যবেক্ষণ করে সম্ভাব্য আশ্রয়স্থল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করার চেষ্টা করেন। কারণ, মাটিতে নামার পর দৃষ্টিসীমা সীমিত হয়ে যায়।
ভূমিতে নামার মুহূর্তটিকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সময় পাইলটদের পা বা শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত লাগার আশঙ্কা থাকে। তাই অবতরণের পরপরই নিজের শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করা জরুরি—তিনি চলাচল করতে পারবেন কি না, সেটিই প্রথম বিবেচ্য বিষয়।
এরপর শুরু হয় পরিস্থিতি মূল্যায়ন। পাইলট বুঝতে চেষ্টা করেন, তিনি শত্রু এলাকায় নাকি তুলনামূলক নিরাপদ স্থানে আছেন। কোথায় লুকানো যাবে, কীভাবে যোগাযোগ করা যাবে—এসব সিদ্ধান্ত দ্রুত নিতে হয়।
হিউস্টনের মতে, “প্রথম লক্ষ্য থাকে আত্মগোপন করা। কারণ ধরা পড়া মানেই বড় ঝুঁকি।” তিনি বলেন, পাইলট এমন জায়গা খোঁজেন, যেখান থেকে উদ্ধারকাজ সহজ হবে—যেমন খোলা মাঠ বা কোনো উঁচু ভবনের ছাদ।
এই পরিস্থিতিতে পাইলটদের সঙ্গে সাধারণত একটি জরুরি সরঞ্জাম কিট থাকে, যাতে থাকে রেডিওসহ যোগাযোগের যন্ত্র। প্রয়োজনে আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্রও বহন করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা শুধু সামরিক দিক থেকেই নয়, মানবিক দিক থেকেও অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করে—যেখানে প্রতিটি মুহূর্তই হয়ে ওঠে বাঁচা-মরার প্রশ্ন।
