রাজধানীর উত্তরায় রিকশাচালককে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ‘উত্তরা স্কয়ার’ শপিং কমপ্লেক্সে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় পুলিশ মামলা করেছে। এতে অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় ৭০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী রফিক আহমেদ জানান, শপিং কমপ্লেক্স ঘেরাও, ভাঙচুর, সড়ক অবরোধ এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকেও আরেকটি মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এন এস নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানান, রিকশাচালককে মারধর করে শপিংমলের ভেতরে বেঁধে রাখার খবরটি সম্পূর্ণ গুজব। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। সংঘর্ষের সময় বিক্ষুব্ধদের হামলায় পুলিশের ছয় সদস্য আহত হন।
এর আগে রবিবার গভীর রাতে উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় এক রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যা ও গুম করার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার জেরে উত্তেজিত রিকশাচালকরা ‘উত্তরা স্কয়ার’ বাণিজ্যিক ভবনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভবনের নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে রিকশা পার্কিংকে কেন্দ্র করে এক চালকের বাকবিতণ্ডা থেকে মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে ওই চালক নিহত হয়েছেন—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। বিক্ষুব্ধদের ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। শেষ পর্যন্ত রাত সাড়ে ৩টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার ওয়াহিদুল ইসলাম জানান, একজন নিখোঁজ থাকার কথা বলা হলেও এখনো তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কেউ নিহত হয়েছেন কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়। ভবনের ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।
