স্টাফ রিপোর্টার: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলাকে কেন্দ্রস্থল করে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিটে এ কম্পন অনুভূত হয় বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪.১। হঠাৎ এই কম্পনে কর্মব্যস্ত মানুষের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এখন পর্যন্ত দেশের কোথাও প্রাণহানি বা বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
European-Mediterranean Seismological Centre (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা। ‘মাই আর্থকোয়েক অ্যালার্ট’ অ্যাপের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ঢাকা থেকে প্রায় ১৮১ কিলোমিটার দূরের ছাতক ছিল কম্পনের কেন্দ্র।
এবারের ভূমিকম্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর গভীরতা। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬২৬ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তি হয়েছে, যা বাংলাদেশে সাধারণত অনুভূত অগভীর ভূমিকম্পের তুলনায় ব্যতিক্রম। গভীরতায় উৎপন্ন হওয়ায় ভূপৃষ্ঠে কম্পনের তীব্রতা তুলনামূলক কম ছিল এবং বড় ধরনের স্থাপনা ধসের ঝুঁকিও কম ছিল।
ভূমিকম্পের পর রাজধানীর বিভিন্ন বহুতল ভবন থেকে মানুষকে দ্রুত নিচে নেমে আসতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আতঙ্কের বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সম্ভাব্য পরবর্তী কম্পন বা আফটারশকের বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, সিলেট ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই ভূমিকম্পপ্রবণ জোন হিসেবে চিহ্নিত। এ ধরনের কম্পন ভবিষ্যতের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে নিয়ে আসে।
স্থানীয় প্রশাসন মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য যাচাই করছে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে ভূমিকম্পের সময় করণীয় অনুসরণ করে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
