শিক্ষাখাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কাজের ভিত্তিতে পুরস্কার ও শাস্তির ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারসহ আওয়ামী লীগ আমলে শিক্ষাক্ষেত্রে যেসব অনিয়ম, দুর্নীতি ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে—সবই নিরীক্ষার মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ও সচিব রেহানা পারভীন।
মন্ত্রী বলেন, অতীতে শ্রেণিকক্ষ ডিজিটালকরণে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন হয়নি—এমন অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে। নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন ছাড়া বদলি সংক্রান্ত অনিয়ম হয়েছে কি না, তাও পর্যালোচনা করা হবে।
বদলি বাণিজ্য ঠেকাতে অটোমেশনভিত্তিক অ্যাপ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এতে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কর্মফল, যোগ্যতা ও নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী বদলি নিশ্চিত করা হবে, তদবিরের সুযোগ থাকবে না।
নকল প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতে নকল দমনে সফলতা ছিল, ভবিষ্যতে এমন পরিবেশ তৈরি করা হবে যাতে আলাদা করে নকলবিরোধী অভিযান চালানোর প্রয়োজন না পড়ে।
এনটিআরসিএর কার্যক্রমেও কড়াকড়ি মনিটরিংয়ের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধে একটি সেল গঠন করা হবে। নতুন স্কুল অনুমোদনের ক্ষেত্রেও যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পাঠ্যবই বিতরণ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, জানুয়ারিতেই বই পৌঁছে দেওয়ার পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাই বই বিতরণে ব্যত্যয় ঘটার কথা নয়।
মন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, বদলির নামে আর কোনো বাণিজ্য চলবে না। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
