আফগানিস্তানে দাড়ি ছোট করে ছাঁটার অভিযোগে নাপিতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে তালেবান শাসকগোষ্ঠী। দাড়ি ‘হাতের মুঠোর চেয়ে ছোট’ রাখাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে তা লঙ্ঘনের দায়ে শাস্তির মুখে পড়ছেন অনেক নাপিত।
তালেবান সরকারের নীতিনৈতিকতা–বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্প্রতি জানায়, এখন থেকে পুরুষদের হাতের মুঠোর চেয়ে লম্বা দাড়ি রাখা বাধ্যতামূলক। আগের নির্দেশনার তুলনায় এবারের বিধান আরও কঠোর হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো উল্লেখ করেছে।
নীতিনৈতিকতা–বিষয়ক মন্ত্রী খালিদ হানাফি বলেন, সবার পোশাক-পরিচ্ছদ ও চেহারা যেন শরিয়াহ আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শহরগুলোতে টহল দিয়ে বিষয়টি তদারকি করছেন।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গজনী এলাকার এক নাপিত অভিযোগ করেন, তার সেলুনে ‘পাশ্চাত্য স্টাইলে’ চুল কাটার অভিযোগে তাকে তিন রাত আটক রাখা হয়েছিল। তিনি জানান, প্রথমে একটি ঠাণ্ডা কক্ষে এবং পরে একটি শিপিং কন্টেইনারে তাকে রাখা হয়। পরে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়াই তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে এখনো টহল দল দেখলে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
আরেকজন নাপিত বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কাস্টোমারকে ছেড়ে দেওয়া হলেও নাপিতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আইন ভঙ্গের অভিযোগে কুনার প্রদেশে তিন নাপিতকে তিন থেকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
শুধু নাপিতরাই নন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরাও চাপে রয়েছেন। কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানান, ইসলামসম্মত বেশভূষা না হলে পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে দেওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে তালেবান সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয় মসজিদের ইমামদের কাছে নির্দেশনা পাঠিয়ে খুতবার সময় দাড়ি কেটে ফেলার বিষয়টিকে ‘গুরুতর অপরাধ’ হিসেবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছে। মন্ত্রী হানাফি বলেন, শরিয়াহ অনুযায়ী দাড়ি রাখার বিষয়ে কোনো আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না; ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ এখানে প্রাসঙ্গিক নয়।
পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন এই বিধিনিষেধ আফগান সমাজে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নকে আবারও সামনে এনে দিয়েছে।
