ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর ও বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবন প্রস্তুত করছে সরকার। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’কে নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে নতুন প্রধানমন্ত্রী কোথায় থাকবেন—তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
‘যমুনা’ প্রস্তুতের কাজ চলছে
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, যমুনা ভবনটিকে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে নতুন প্রধানমন্ত্রীর চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানরা ‘যমুনা’য় অবস্থান করেছেন। তবে গত বছর সংসদ ভবন চত্বরে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন একীভূত করে প্রধানমন্ত্রীর আবাস করার একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে তা বাতিল করা হয়।
গুলশান নাকি সরকারি বাসভবন?
নির্বাচনে জয়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান বর্তমানে গুলশানে পারিবারিক বাসভবনের পাশে অবস্থান করছেন। তবে আবাসিক এলাকায় নিরাপত্তা ও সংসদ ভবনের দূরত্ব বিবেচনায় সরকারি বাসভবনে স্থানান্তরের সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার ওপর।
বিরোধী দলীয় নেতার বাসভবনও প্রস্তুত
হেয়ার রোডে ‘যমুনা’র পাশের ২৯ নম্বর ভবনটি বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবন হিসেবে নির্ধারিত। অতীতে শেখ হাসিনা (১৯৯১–৯৬) এবং খালেদা জিয়া (১৯৯৬) সেখানে অবস্থান করেছিলেন। দীর্ঘদিন পর আবারও ভবনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
নতুন সরকার শপথের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতার বাসস্থান চূড়ান্ত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
