সরকার বিমান বাংলাদেশকে আধুনিকীকরণ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে বোয়িং কোম্পানি থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ চুক্তির জন্য প্রায় ৩০–৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বাণিজ্য ও বেসামরিক বিমান চলাচল বিষয়ক উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে জানান, এয়ারবাস ও বোয়িংয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে টেকনো-ফাইন্যান্সিয়াল বিশ্লেষণ সম্পন্ন হয়েছে। উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বোয়িংয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছে।
প্রস্তাবিত ক্রয়মূল্য ৩০–৩৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে হতে পারে। অর্থ পরিশোধ দীর্ঘমেয়াদে হবে; প্রাথমিকভাবে ১০ বছরের পরিকল্পনা থাকলেও পুরো পরিশোধে ২০ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। বছরে প্রায় ১,৫০০ থেকে ২,০০০ কোটি টাকা পরিশোধের সম্ভাবনা রয়েছে। দাম সংক্রান্ত আলোচনা এখনও চলমান। আলোচনা সফল হলে ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে, অন্যথায় এটি স্থগিত হতে পারে।
চুক্তির আওতায় বোয়িং থেকে ৮টি ৭৮৭-১০, ২টি ৭৮৭-৯ এবং ৪টি ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি আলোচনায় শুল্ক হ্রাসের সম্ভাবনা রয়েছে। বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানান, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানো এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র তৈরি পোশাকসহ কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক কমাতে পারে।
উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন বলেন, শুরুতে বাংলাদেশের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপিত ছিল, যা আলোচনা শেষে ২০ শতাংশে নামানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য শুধু শুল্ক কমানো নয়, প্রধান রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্ক শূন্যে নামানো।
