ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) ও পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে একাধিক সহিংসতার ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন দুই আসনেই অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করেছে।
রোববার পটুয়াখালী-২ আসনের চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে প্রায় ৪০ জন আহত হন। একই দিনে জামায়াতের নারী শাখার সভাপতি লিমা জাহান নামের এক অন্তঃসত্ত্বা নারী মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার প্রতিবাদে জামায়াত নেতা-কর্মীরা উপজেলা শহরে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভ চলাকালে আবারও সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হন এবং পরে বাউফল থানার ওসির প্রত্যাহারের দাবিতে থানা ঘেরাও করা হয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিন ঘণ্টার আলোচনার পর রাত ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এর পরদিনও হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।
এর আগে বিভিন্ন সময় হামলা, সংঘর্ষ ও অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের ঘটনায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দুই প্রার্থীকে সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার জানান, সহিংসতা ঠেকাতে বাউফলে অতিরিক্ত ৬০–৭০ জন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সেনাবাহিনী, বিজিবি ও আনসারের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
অন্যদিকে পটুয়াখালী-৩ আসনে বিভিন্ন পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে অগ্নিসংযোগসহ প্রায় ১৫–২০টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। নুরুল হক নূর ও বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুনের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি এলাকায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং দুটি উপজেলায় মোট ১০ প্লাটুন সেনা দায়িত্ব পালন করছে।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, দুই আসনে সাম্প্রতিক সহিংসতার কারণে নির্ধারিত বাহিনীর পাশাপাশি অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
