ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত শুনানি শেষে সিআইডিকে আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
এদিন আদালতে মামলার চার্জশিট গ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার বাদী তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন এবং মামলাটি অধিকতর তদন্তের আবেদন জানান। শুনানি শেষে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে সিআইডিকে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর পল্টন থানাধীন বক্স কালভার্ট রোডে দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। ঘটনার দুই দিন পর, ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। পরে তদন্তের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০ ডিসেম্বর মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) যুক্ত করার আদেশ দেন আদালত।
অভিযোগে বলা হয়, ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে মতিঝিল মসজিদ থেকে জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা শেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলে থাকা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল দাউদ এবং তার সহযোগীরা ওসমান হাদিকে অনুসরণ করে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করে পালিয়ে যায়। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তিনি মারা যান।
গত ৬ জানুয়ারি এ মামলায় ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুলসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ। চার্জশিটে ৭৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে ১১ জন কারাগারে আটক রয়েছেন এবং ৬ জন পলাতক।
পলাতক আসামিরা হলেন— ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল, তার সহযোগী আলমগীর হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফিলিপ স্মাল পিলিপস, মুক্তি আক্তার ও জেসমিন আক্তার।
কারাগারে আটক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বলসহ অন্যান্য সহযোগীরা।
