২০২৬ সালের ১৮ মে শুরু হবে পবিত্র জিলহজ মাস। সেই হিসেবে আগামী ২৬ মে মঙ্গলবার হবে আরাফাত দিবস এবং ২৭ মে বুধবার পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা।
এ সময় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো মুসল্লি আরাফাতের ময়দানে সমবেত হবেন।
হজে যাওয়ার আগে শারীরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি মানসিক ও আত্মিক প্রস্তুতি নেওয়াও অত্যন্ত জরুরি।
ইসলামি চিন্তাবিদরা বলছেন, হজের মূল ভিত্তি হলো খাঁটি নিয়ত ও আত্মশুদ্ধি।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, ‘তারা তো এ ছাড়া অন্য কোনো নির্দেশ পায়নি যে, তারা আল্লাহর ইবাদত করবে একনিষ্ঠভাবে।’—(সুরা বাইয়িনাহ, আয়াত: ৫)
তাই হজে যাওয়ার আগে নিজের অন্তর যাচাই করতে হবে—এই সফর কি শুধুই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, নাকি সামাজিক মর্যাদা অর্জনের জন্য।
একইসঙ্গে অহংকার, হিংসা, রিয়া ও বিদ্বেষের মতো অন্তরের ব্যাধি দূর করার চেষ্টা করতে হবে।
হজের ব্যয়ভার অবশ্যই হালাল উপার্জন থেকে হওয়া জরুরি।
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ পবিত্র এবং তিনি কেবল পবিত্র জিনিসই গ্রহণ করেন।’—(সহিহ মুসলিম: ১০১৫)
তাই আয়ের উৎস যাচাই করে হারাম বা সন্দেহজনক উপার্জন থেকে বিরত থাকতে হবে।
বিশেষজ্ঞ আলেমরা বলছেন, হজের মাসআলা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ অজ্ঞতার কারণে অনেক সময় হজের গুরুত্বপূর্ণ আমল ভুলভাবে সম্পন্ন হয়ে যায়।
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা আমার কাছ থেকে তোমাদের হজের নিয়ম-কানুন শিখে নাও।’—(সহিহ মুসলিম: ১২৯৭)
হজে যাওয়ার আগে ঋণ পরিশোধ করা বা ঋণদাতার অনুমতি নেওয়াও জরুরি।
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির আত্মা তার ঋণের কারণে আটক থাকে, যতক্ষণ না তা পরিশোধ করা হয়।’—(সুনানে তিরমিজি: ১০৭৮)
এ ছাড়া পরিবারের ভরণপোষণ, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিশ্চিত করে যাওয়া উচিত।
হজের আগে নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির ও দোয়ার অভ্যাস বাড়িয়ে নিজেকে ইবাদতের জন্য প্রস্তুত করা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে থেকেই দোয়ার তালিকা তৈরি করলে হজের সময় মনোযোগ দিয়ে ইবাদত করা সহজ হয়।
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ করে এবং অশ্লীলতা ও পাপ থেকে বিরত থাকে, সে এমন হয়ে ফিরে আসে যেন আজই তার জন্ম হয়েছে।’—(সহিহ বুখারি: ১৮২০, সহিহ মুসলিম: ১৩৫০)
