যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, চাপ, হুমকি ও অবরোধে টলবে না তেহরান।
রোববার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সঙ্গে ফোনালাপে তিনি এ কথা বলেন।
ফোনালাপে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি, ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা এবং যুদ্ধবিরতি সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এ সময় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান অঞ্চলে শান্তি ফেরাতে পাকিস্তানের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।
একই সঙ্গে কূটনৈতিক উদ্যোগে ভূমিকার জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
যুদ্ধবিরতি ঘিরে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গে পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেন, আলোচনা চলাকালীন এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকরের সময়ও যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে চাপ প্রয়োগ ও লঙ্ঘন চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের তথাকথিত সামুদ্রিক বিধিনিষেধ যুদ্ধবিরতির সমঝোতার স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থী।
পেজেশকিয়ানের ভাষায়, এসব পদক্ষেপ ও হুমকিমূলক বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে সন্দেহ বাড়িয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ইরানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি সতর্ক করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নতুন কোনো সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
তিনি আরও বলেন, পারস্য উপসাগরীয় উপকূলবর্তী দেশসহ সব প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক জোরদারে ইরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বাহ্যিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার কথাও জানান তিনি।
অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক তৎপরতা সম্পর্কে ইরানি প্রেসিডেন্টকে অবহিত করেন।
তিনি বলেন, সংঘাত বন্ধ ও শান্তি উদ্যোগে পাকিস্তানের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
